এই পর্বে আমরা দেখব—ভালোবাসা যখন দূরত্বের পরীক্ষা দেয়। রিধির বদলি, অর্ণবের একাকীত্ব, ভিডিও কলের ভালোবাসা, আর সেই অভিমানের ভেতরকার কান্না।
📖 প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ৯
দূরত্ব, কিন্তু দূরে নয়
📩 হঠাৎ খবর
এক দুপুরে রিমি অফিস থেকে ফোন করল অর্ণবকে—
— “অর্ণব, একটা খবর আছে।”
— “বলো।”
— “আমার প্রমোশন হয়েছে… কিন্তু…”
— “কিন্তু?”
— “পুনেতে পোস্টিং এসেছে। ছয় মাসের জন্য।”
অর্ণব চুপ।
তারপর জিজ্ঞেস করল—
— “তুই যাবি?”
— “আমি তো জানি, তুই আমাকে যেতে দে… তাই না?”
অর্ণব জানে, এটাই রিধির স্বপ্নের প্রজেক্ট।
সে জানে তাকে যেতে দিতে হবে।
তবু বুকের ভিতরটা ধ্বসে পড়ে।
— “আমি যাব… কিন্তু তুই আমার সঙ্গে থাকবি, তো?”
— “দূরে থেকেও?”
— “হ্যাঁ, মন দিয়ে, চোখ দিয়ে, কণ্ঠস্বর দিয়ে…”
🛫 বিদায়ের দিন
রিধির ব্যাগ গোছানো, ফ্লাইট সকাল ৭টায়।
অর্ণব সারারাত ঘুমায়নি।
শুধু পাশে বসে ছিল, রিমির মুখের দিকে তাকিয়ে।
রিধি বলল—
— “একটা চিঠি রাখছি তোর জন্য। তুই আমি চলে যাওয়ার পর পড়বি, ঠিক আছে?”
— “তুই না থাকলে… ফ্ল্যাটটা অনেক ফাঁকা লাগবে রে।”
— “আমি তো তোর মধ্যেই থাকব।”
বিমানবন্দরে অর্ণব বিদায় দিতে এসে চোখের জল লুকায়।
রিধি বিদায় জানিয়ে বলে—
— “ভালো থাকিস, আর আমাকে ভুলে যাস না…”
অর্ণব ফিসফিস করে—
— “ভুলতে গেলে তোকে আবার প্রেমে পড়ে যাব…”
📱 দূরত্বের শুরু
প্রথম কয়েকদিন রিমি ও অর্ণব নিয়ম করে ভিডিও কল করে।
রিধি অফিস শেষে ক্লান্ত হলেও হাসে, অর্ণব চা করে রিধির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে খায়।
কিন্তু কিছুদিন পর—
কল আসতে দেরি হয়, উত্তর আসে কম,
একদিন হঠাৎ কল কেটে যায়,
হোয়াটসঅ্যাপে ‘Seen’ লেখা থাকে, কিন্তু উত্তর আসে না।
অর্ণব মেসেজ করে—
“রিধি, ঠিক আছিস তো?”
ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। কোনো উত্তর নেই।
রাত ১টা।
অর্ণব একা বারান্দায় বসে, চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলে—
— “তুই তো বলেছিলি, দূরে গিয়েও কাছেই থাকবি…”
তার চোখে জল আসে, তবু ফোনটাকে বুকে চেপে ধরে।
💌 আবার সেই চিঠি
অর্ণব অবশেষে খাম খুলে রিধির দেওয়া চিঠিটা পড়ে—
**“অর্ণব,
আমি জানি, তুই আমাকে মিস করবি।
আমি তোকে মিস করব আরও বেশি।
কিন্তু তুই জানিস? এই ছয় মাসই আমাদের প্রেমের আসল পরীক্ষা।
যদি তুই আমার চোখে চোখ রেখে ভালোবাসতে পারিস না, তাহলে দূর থেকেও পারবি না।
আমরা ভালোবাসি—এটা তো শুধু এক ছাদের নিচে থাকার জন্য নয়, এক হৃদয়ের তলায় থাকার জন্য।
আমি তোকে প্রতিদিন মনে মনে চুমু দিচ্ছি, প্রতিদিন তোকে বলছি—‘আমি তোকে ভালোবাসি।’
শুনতে পাচ্ছিস না?”**
চিঠি পড়ে অর্ণব ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলে।
তবু সকাল হতেই সে আবার চা বানায়, ফোনে রিধির স্ক্রিনশট খুলে রেখে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়।
অদৃশ্যভাবে সে জানে, রিধিও সেই সময়ে তার নিজের কাপ এগিয়ে দেয় পুনের ফ্ল্যাটে।
প্রেম তখন, প্রেম এখন এর পর্ব ৯
🌅 অপেক্ষার দিন
দিন কেটে যায়।
একদিন হঠাৎ সকালবেলা দরজার ঘন্টার শব্দ।
অর্ণব দরজা খুলে চমকে যায়—
রিধি দাঁড়িয়ে আছে!
— “সারপ্রাইজ!”
— “তুই! এক মাস আগেই ফিরে এলি?”
— “প্রজেক্ট আগেই শেষ হয়ে গেছে।
তোর চিঠির উত্তর দিতে এসেছি… সামনে বসে, চোখে চোখ রেখে।”
অর্ণব তাকে জড়িয়ে ধরে।
— “তুই দূরে গেলে আমি বুঝেছি, প্রেম মানে শুধু ‘পাশে থাকা’ নয়, প্রেম মানে হলো ‘প্রতিটা নিঃশ্বাসে থাকার নাম।’”
পর্ব ১০-এ আসছে এক নতুন বাঁক—রিমি ও অর্ণব নতুন একটি সিদ্ধান্ত নেবে: হয়তো নতুন শহর, নতুন জীবন, অথবা একটি নতুন সদস্য—একটি শিশু।
প্রেম তখন, প্রেম এখন এর পর্ব ৯

