প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ১১

✨ প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ১১: অভ্যাসের নাম প্রেম

🧸 অর্ণিমার ছোটবেলা

ছোট্ট অর্ণিমা এখন তিন বছর বয়সে পড়েছে।
গলগল করে কথা বলে, খেলা করে, মাঝে মাঝে বাবাকে বলে—
— “তুমি তো অফিস যেও না, আমার সঙ্গেই খেলো!”
অর্ণব তখন অফিসের মেইল সাইডে রেখে মেয়ের চুলে বেণি করে।
রিমি হাসে—
— “এই সেই অর্ণব, যে প্রেমপত্রে এক লাইন লিখতে কাঁপত, আর এখন চুল বেঁধে দেয়!”
অর্ণব বলে—
— “ভালোবাসা এখন হাতে ব্রাশ ধরা আর বাচ্চার মুখ মুছে দেওয়া।”

💼 কর্পোরেট চাপ, পারিবারিক ভারসাম্য

রিধির অফিসে নতুন ক্লায়েন্ট, অর্ণবের টিমে ডেডলাইন।
রাত্তিরের খাবার কখনও ঠান্ডা হয়ে যায়, কখনও অর্ণিমা ঘুমিয়ে পড়ে মা-বাবার মুখ না দেখেই।
সেই প্রেমমাখা রাতজাগা গল্পগুলো কমে গেছে।
তবু একদিন অর্ণব দেখে, ফ্রিজের পাশে ছোট্ট একটা নোট—

“তুই মাংস খেতে ভালোবাসিস না, তবু আজ বানিয়েছি—
কারণ তুই কাজের মাঝে নিজের খাবারের কথা ভুলে গেছিস… ভালোবাসি।”

অর্ণব ফোন তোলে, রিধিকে মেসেজ করে—
“তোর রান্নায় শুধু নুন নয়, প্রেমও থাকে। তাই আজও আমি তোকে খেয়ে ফেলি…”

💬 অর্ণিমার প্রশ্ন

এক সন্ধ্যেবেলা অর্ণিমা হঠাৎ প্রশ্ন করে—
— “মা, তুমি বাবা’কে কেন ভালোবাসো?”
রিধি থমকে যায়।
তারপর মেয়ের চোখে চোখ রেখে বলে—
— “কারণ তোর বাবা আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু। আমি কাঁদি তো ও চুপ করায়, আমি হাসি তো ও হেসে ফেলে।”
অর্ণিমা আবার জিজ্ঞেস করে—
— “বাবা, তুমি মা’কে কেন ভালোবাসো?”
অর্ণব কাঁধে তুলে নিয়ে বলে—
— “কারণ তোর মা না থাকলে, এই তুইও থাকতিস না… আমার পৃথিবীটাই তো ও।”

🪞 অভ্যাস না প্রেম?

কখনও কখনও রিধি ভাবে—
“এটা কি সত্যি প্রেম, না শুধু দীর্ঘদিনের অভ্যাস?”
রাতের বেলা অর্ণব পাশ ফিরে শুয়ে থাকে, রিধি চুপচাপ ফোন স্ক্রল করে।

তবে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে রিধি—জ্বর, মাথাব্যথা।
অর্ণব সারারাত পাশে বসে কপালে ঠান্ডা জল দিয়ে রাখে, অর্ণিমাকে দুধ খাওয়ায়, অফিসে ছুটি নেয়।

রিধি তখন চোখে জল নিয়ে ভাবে—
“এই যদি অভ্যাস হয়, তবে আমি এই অভ্যাসে বন্দি থাকতে চাই আজীবন।”

🛶 বিয়ের বার্ষিকী: নীরব উদযাপন

বিয়ের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে।
না কোনো গিফট, না বিশেষ ডিনার।
রিধি সকালে উঠে দেখে কিচেনে একটি ছোট কেক, পাশে অর্ণিমার হাতে আঁকা কার্ড—

“মা-বাবা, তোমরা না থাকলে আমি পৃথিবীতেই আসতাম না। তোমাদের ভালোবাসা আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

রিধি ও অর্ণব মুখ চেয়ে হাসে।
কথা নেই, তবু ভালোবাসা উপচে পড়ে।

📦 অতীতের বাক্স

একদিন পুরোনো বইয়ের তাক গুছাতে গিয়ে রিধি খুঁজে পায় এক বাক্স—
ভেতরে অর্ণবের দেওয়া সেই প্রথম প্রেমপত্র, কিছু পুরোনো সিনেমার টিকিট, রিধির আঁকা স্কেচ, একসাথে তোলা ছবি।

দু’জনে বসে পড়ে মেঝেতে।
রিধি হেসে বলে—
— “তখন প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম, এখন শুধু হেঁচকি উঠছে…”
অর্ণব বলে—
— “তবে হেঁচকির মধ্যেও তো আমি তোর নাম নিই।”
রিধি হেসে কাঁদে।

🎈 ছোট্ট অর্ণিমার সারপ্রাইজ

এক সন্ধ্যেবেলা অর্ণিমা ঘরের আলো নিভিয়ে দেয়।
রিধি ও অর্ণব অবাক।
হঠাৎ দেখতে পায়—ডাইনিং টেবিলে কাগজের ফুল, ক্রেয়নের ব্যানার লেখা:
“মা-বাবার প্রেম দিবস”

অর্ণিমা বলে—
— “তোমরা একদিন আমাকে এনেছো, আজ আমি তোমাদের ভালোবাসা মনে করিয়ে দিলাম।”

রিধি অর্ণবের দিকে তাকায়।
শুধু বলে—
— “আমরা বুড়িয়ে গেলাম রে অর্ণব…”
— “হ্যাঁ, কিন্তু প্রেমটা এখনও ২৫ বছরের…”

 

পর্ব ১২-এ আমরা দেখব— অর্ণিমা যখন বড় হতে থাকে, তার নিজের প্রেম, নিজের প্রশ্ন, আর বাবা-মায়ের পুরোনো গল্প নতুনভাবে জীবনে ফিরে আসে।
তখন প্রেম শুধু গল্প নয়, উত্তরাধিকার।

Follow our facebook page 
Read More

প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ১০