✒️প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ১০: দুটি মন, তিনটি হৃদয় পূর্ববর্তী পর্বে
রিধি ও অর্ণব দূরত্ব পেরিয়ে আবার একসঙ্গে হয়েছে। ফিরে এসে রিমি যেন প্রেমের সেই পুরোনো ঘ্রাণটা আবার ফিরিয়ে এনেছে।
এবার সময় এসেছে জীবনের এক নতুন মোড়ের—একটি নতুন অধ্যায়ের।
🌸 নতুন সকাল
রিধি আবার সেই পুরোনো রুটিনে ফিরে এসেছে।
অর্ণব সকালবেলা চা বানায়, রিধি পত্রিকা পড়ে, আর দুজনের মাঝে নীরব ভালোবাসার টান।
কিন্তু এবার রিধির মুখে যেন একটা আলাদা আলো।
সে সকালে হালকা মেঘলা মুখে বসে থাকে, চা শেষ করতে পারে না।
অর্ণব খেয়াল করে।
— “রিধি, তুই ঠিক আছিস তো?”
— “হ্যাঁ… মানে… একটা কথা বলব, শুনবি?”
— “আরে বল না!”
— “আমি মা হতে চলেছি।”
অর্ণব চুপ হয়ে যায়।
তারপর একটা বিস্ময় আর আনন্দ মিলিয়ে রিধির দিকে তাকায়।
— “সত্যি রে?”
— “হ্যাঁ… তোর ছোঁয়া এখন শুধু আমার মনে না, শরীরেও জায়গা করে নিচ্ছে…”
অর্ণব ধীরে ধীরে রিধির কপালে চুমু দেয়।
— “আমাদের প্রেমটা এবার একটা নতুন জীবনে জন্ম নেবে। ভাবতেই পারছি না…”
👶 প্রতীক্ষা
দিনগুলো পাল্টে যায়।
রিমির শরীর বদলাতে শুরু করে, অর্ণব তার আগের চেয়ে বেশি যত্নশীল হয়ে ওঠে।
• সকালে রুটি কম মশলায়
• রাতে দুধে হালকা হালুয়া
• অফিস থেকে ফিরে রিধির পায়ের মালিশ
• রাত্তিরে বই পড়ে শোনানো শিশুকে—যে এখনো পৃথিবীতে আসেনি
একদিন অর্ণব ডায়েরিতে লিখল:
“আজ রিধির পেটে আমাদের সন্তানের প্রথম কিক টের পেলাম।
কী যেন এক বিস্ময়ের অনুভূতি।
মনে হলো, এই ছোট্ট প্রাণ আমার, তবু সম্পূর্ণ নতুন একটা পৃথিবী আনছে আমাদের মাঝে।”
রিধি একদিন বলল—
— “এই শিশুর নাম ভাবা শুরু করবি না?”
— “নাম! ছেলেও হতে পারে, মেয়েও।”
— “দুইটা রাখ, ‘অর্ণিমা’ আর ‘ঋষভ’। যেটা হবে, সেটাই ডাকব!”
💞 বিয়ের পর প্রেম আরও গভীর
রিধির মা এসে একদিন বলল—
— “বিয়ের আগে প্রেম একরকম হয়, বিয়ের পর আরেকরকম।
কিন্তু তোর আর অর্ণবের প্রেমটা যেন একটাই স্রোতে বয়ে চলেছে, শুধু গভীরতা বেড়েছে।”
অর্ণব হাসে—
— “একটা সময় ছিল, ভালোবাসা মানে ছিল হ্যান্ড-হোল্ডিং আর রাত জেগে ফোনে কথা।
এখন ভালোবাসা মানে রিধির জন্য ভাতের সঙ্গে আলাদা ঘি দেওয়া।”
রিধি হেসে বলে—
— “আর এক চামচ বেশি কষ্ট ভাগ করে নেওয়া।”
🌃 সন্তানের আগমনের প্রাক্কালে
রাত এগারোটা।
হঠাৎ রিধির ব্যথা শুরু হয়।
অর্ণব তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গুছিয়ে, ট্যাক্সি ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডেলিভারির সময় অর্ণব ওটিতে ঢুকতে চায়, কিন্তু নার্স বলে—
— “দাদা, আপনি বাইরে থাকুন। সব ঠিকঠাক হবে।”
অর্ণব বাইরে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করে—
“ভগবান, ওদের দুজনকেই আমার কাছে সুস্থ ফিরিয়ে দাও।
আমি ওদের ছায়া হব, ছায়া থেকে আলোতে আসতে চাই না।”
এক ঘণ্টা পর, নার্স এসে জানায়—
— “মেয়ে হয়েছে। মা আর বাচ্চা দুজনেই ভালো আছে।”
অর্ণব ছুটে যায় কাচের জানালার কাছে।
ছোট্ট একটা গোলাপি তোয়ালের ভেতর ছোট্ট এক জীবন, যার চোখ তখনও পুরো খোলে না।
রিধি ক্লান্ত মুখে বলে—
— “তুই বাবা হলি, অর্ণব।”
— “আর তুই আমার ভালোবাসার সম্পূর্ণ রূপ।”
🍼 তিনজনের সংসার
রিধির কোলে ছোট্ট অর্ণিমা।
রাতে ঘুম ভেঙে দুধ খাওয়ানো, খেলার ছলে দুলুনি,
আর অর্ণবের নরম গলায় গান:
“তোর মায়ের চোখে যে স্বপ্ন ছিল,
তুই সেই স্বপ্নের ছায়া—
আমাদের ভালোবাসা শুধু দু’জনের ছিল না,
এখন সে তিনজনের মায়া…”
পর্ব ১১-এ আমরা দেখব—সন্তান বড় হওয়া, বাবা-মায়ের নতুন দায়িত্ব, প্রেম আর বাস্তব জীবনের টানাপোড়েন।
তবুও অর্ণব-রিধির প্রেম টিকে থাকবে, অন্যরকম এক পরিণত রূপে।
Follow our facebook page
Read More

