প্রেম তখন প্রেম এখন পর্ব ৬

প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ৬

✒️ বিয়ের আগে, স্বপ্নের আগে

অর্ণবের মা এখন ধীরে ধীরে রিধিকে আপন করে নিচ্ছেন।
তিনি রিমিকে মাঝে মাঝে ফোন করেন—“কি রাঁধলি আজ?”, “রিধি, তোর প্রেসেন্টেশন কেমন হলো?”
রিধির মাও অর্ণবের প্রশংসা করেন এখন—“ছেলেটা ভদ্র, চোখেমুখে শান্তি আছে। মানুষ হিসেবেও ভালো মনে হয়।”

📆 বিয়ের কথা পাকা হচ্ছে

অর্ণব একদিন রিমিকে ফোন করল—

— “শোন, মা বলেছে এবার না কি ‘পাকা দেখা’ করে নিতে হবে।”
— “মানে?”
— “মানে, দুই পরিবার একসাথে বসে দিন-তারিখ ঠিক করা—আমার মা খুব সিরিয়াস।”
— “তাহলে কি এবার বিয়েটা পাকা?”
— “তুই রাজি তো?”

রিধি চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ।
তারপর মৃদু গলায় বলে—

— “তোর হাত ধরে বাকি জীবনটা হাঁটতে চাই।”

🏡 পাকা দেখা ও দিন-তারিখ

দুই পরিবার একসাথে বসে।
মিষ্টির বাক্স, চায়ের কাপ, কনভেনশনাল আলোচনা—বিয়ের অনুষ্ঠান কোথায় হবে, কয়টা অতিথি, বরের জামা কোন রঙের, কনের গায়ে হলুদের মেনু কেমন হবে…

তারিখ ঠিক হয়—ডিসেম্বর ১৫, একেবারে শীতকালের শুরুতে।

রিধি ভাবছিল,
“একটা সময় ছিল, আমরা গোপনে হাত ধরতাম। এখন সবাই চাইছে আমরা হাত ধরেই সারাজীবন হাঁটি।”

👰 বিয়ের প্রস্তুতি


রিমির ঘরে এখন সাজগোজ, কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের আসা-যাওয়া।
সে মাকে জিজ্ঞেস করল—

— “মা, আমি কি সত্যিই এখন বিয়ে করছি?”
— “হ্যাঁ রে মা, সময় যে চলে যায়। তুই আর ছোট্ট মেয়ে নেই।”
— “কিন্তু আমি তো আজও কলেজের সেই বেঞ্চে বসা মেয়েটা, যে অর্ণবকে বলেছিল—‘তুই আমার পাশে থাকবি তো?’”
— “সেই কথার প্রতিফলনই তো আজকের এই দিন।”

অর্ণবের দিকেও প্রস্তুতি চলছে।
তার বন্ধুরা এসে বলছে—

— “এই তো, তোর বিয়ে, এবার ঘরে বউ!”
— “আরে ভাই, তুই তো একেবারে সংসারী হয়ে গেলি!”

অর্ণব মাঝেমধ্যে চুপ করে বসে থাকে, ফোনে রিধির ছবি দেখে।
ভাবতে থাকে—এই মেয়েটাই তো ছিল তার কলেজ জীবনের সবটুকু অনুভব, আজ সেই মেয়েটাই হতে চলেছে তার জীবনসঙ্গিনী।

💌 বিয়ের আগের রাতে: একটি চিঠি

বিয়ের আগের রাতে রিধি তার ডায়েরিতে একটা চিঠি লেখে, অর্ণবের উদ্দেশে—

“প্রিয় অর্ণব,
কাল আমাদের বিয়ে।
ভাবতেই পারছি না, আমরা সত্যিই একসাথে হতে চলেছি।
তুই তো জানিস, আমি কত ভয় পেতাম—পরিবার মানবে কি না, তুই থেকে যাবি তো?
কিন্তু তুই ছিলিস, আছিস, আর থাকবি—এই বিশ্বাসটাই আমাকে শক্তি দিয়েছে।
আমি জানি, সব দিন রূপকথার মতো হবে না, ঝড়ও আসবে।
কিন্তু আমি চাই, সেই ঝড়ে তুই আমার ছাতা হয়ে থাকিস, আর আমি তোর পাশে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি।


কাল থেকে তুই আমার ‘সখা’ না, তুই আমার ‘স্বামী’।

ভালোবাসি,
– তোর রিধি ”

চিঠিটা সে অর্ণবকে দেবে বিয়ের দিন সকালে, গোপনে, হয়তো তার পাঞ্জাবির পকেটে রেখে।

💐 শেষ প্রস্তুতি


শহরে শীত পড়ছে। বাতাসে মিষ্টি ফুলের গন্ধ।
বিয়ের মণ্ডপে সাজ চলছে, অতিথিরা আসছেন, ঢাক বাজছে।
রিমি লাল বেনারসি পরে আয়নায় নিজের দিকে তাকায়—“আমি কি সত্যিই আজ বউ?”
অর্ণব সাদা শেরওয়ানি পরে বন্ধুরা ঘিরে ধরছে—“ভাই, তুই তো আজ হিরো!”

শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়—
প্রেমের শুরু যেভাবে নিঃশব্দে হয়েছিল, এবার তার মিলন হবে হাজারো মানুষের করতালিতে।


পর্ব ৭-এ আমরা দেখব—বিয়ের দিন, রিমি-অর্ণবের অনুভূতির ঢেউ, বিয়ের ছোট ছোট বিশেষ মুহূর্ত আর বিয়ের পরের প্রথম রাত, যেখানে প্রেম আরও এক নতুন রূপ পাবে—নির্ভরতার, সঙ্গীতের, ছোঁয়ার, নীরবতার।