✒️ পর্ব ৭: মধুর শুরু, চুপিচুপি কথা
🕯️ বিয়ের দিন
বিয়ের মণ্ডপ আলোয় ভরে উঠেছে। চারপাশে ফুলের গন্ধ, শঙ্খধ্বনি, আর মানুষের হাসি-কান্নার মিলন।
রিধি লাল বেনারসিতে একেবারে অপূর্ব লাগছে। মাথায় সিঁদুররাঙা টিকলি, কপালে ছোট্ট একটা লাল বিন্দু, চোখে কাজলের ছায়া।
অর্ণব তার চোখে তাকিয়ে থাকতে পারছে না—তাকালেই যেন দম আটকে যাচ্ছে।
সে মনে মনে বলল,
“এমন রিমিকে তো কখনও দেখিনি, এই রিধি শুধু আমার, আজ থেকে সারাজীবনের জন্য।”
সাতপাক ঘোরার সময় অর্ণবের কানে রিধি চুপিচুপি বলল—
— “তুই যে আমার পাশে আছিস, তাতেই তো আমার সব ভয় কেটে যাচ্ছে।”
অর্ণব ফিসফিস করে বলল—
— “ভয় কিসের? তোকে আজ আমি শপথ করে পাশে রাখলাম… আজীবনের জন্য।”
💐 বিদায় ও নতুন সংসারে পা
বিদায়বেলায় রিধির চোখে জল।
বাবার গলা ধরে কাঁদছে—
— “বাবা, আমি যাব, কিন্তু আমি তো তোমাদের মধ্যেই থাকব। প্রতি সন্ধ্যায় ফোন করব, ঠিক আছে?”
মা চোখ মুছতে মুছতে বললেন—
— “সুখে থাকিস মা। অর্ণবকে ভালোবাসিস, আর নিজেকে ভুলে যাস না।”
অর্ণব রিধির কাঁধে আলতো হাত রাখে।
তার স্পর্শে রিধি যেন শক্তি পায়।
নতুন সংসারে পা রাখে রিধি ।
আলপনায় ভেজা পা রেখে সে ঘরে ঢোকে।
শাশুড়ি মিষ্টি হেসে বলে—
— “এই ঘরটা আজ থেকে তোর, মা। সাজাতে হবে ভালোবাসা দিয়ে।”
🌙 বিয়ের পরের রাত
রিধি আর অর্ণব এবার এক ঘরে।
ঘর সাজানো ফুলে, মোমবাতিতে, আর হালকা গন্ধে।
রিধি বসে আছে বিছানার এক পাশে, একটু লাজুক, একটু নার্ভাস।
অর্ণব আস্তে আস্তে পাশে এসে বসে।
— “তুই ঘাবরাচ্ছিস?”
রিধি হাসে—
— “আরে না! মানে… হ্যাঁও। কারণ এত বছর ধরে তুই ছিলি আমার প্রেমিক, এখন তুই আমার বর। এই রূপটা নতুন তো।”
— “আমি তো সেই অর্ণবই আছি, শুধু এবার তোর আরো বেশি আপন।”
— “তুই জানিস? বিয়ের আগে চিঠি লিখেছিলাম তোকে, কিন্তু দিলাম না…”
— “দে না এখন।”
রিধি একটা কাগজ বের করে দেয়।
অর্ণব পড়ে—রিমির সেই চিঠি, যা সে বিয়ের আগের রাতে লিখেছিল।
চিঠি পড়ে অর্ণবের চোখ ভিজে যায়।
সে রিধির হাত ধরে বলে—
— “তুই যদি কখনও এই সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করিস, শুধু এই চিঠিটা পড়ে নিস। এই চিঠিতেই তো তোদের দুজনের জীবনের সারাংশ লেখা।”
রিধি তার কাঁধে মাথা রাখে।
— “অর্ণব, জানিস? আমি তোর চোখের দিকে তাকিয়ে একরকম সুর শুনি… সেটা বিশ্বাসের, সেটা নির্ভরতার। আমি জানি, জীবনে ঝড় আসবেই, কিন্তু তুই আছিস বলেই আমি পথ হারাব না।”
অর্ণব চুপচাপ, শুধু তার কপালে একটা চুমু এঁকে দেয়।
বাইরে শীতল হাওয়া বইছে, চাঁদের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকছে।
এই রাত, এই নীরবতা, আর এই ভালোবাসার বন্ধন—এ যেন একটা নতুন জগতের শুরু।

