প্রেম তখন, প্রেম এখন ✒️ পর্ব ৮:
এক ছাদের নিচে—বাস্তবের প্রেম
বিয়ে হয়ে গেছে।
রিধি আর অর্ণব এখন একসাথে থাকে দক্ষিণ কলকাতার এক ছোট্ট ফ্ল্যাটে।
দুই বেডরুম, ছোট রান্নাঘর, বারান্দায় একটা তুপুর গাছ—একদম গুছিয়ে নেওয়া নতুন সংসার।
প্রথম কয়েকদিন যেন মধুচন্দ্রিমা।
রিধি সকালে উঠে ব্রেকফাস্ট বানায়, অর্ণব পেছন থেকে এসে গালে চুমু খায়।
— “আজকে কি বানাচ্ছিস?”
— “তোর প্রিয় – পনির পরোটা।”
— “আহা! আমি তোর প্রেমেই বাঁচি রে।”
কিন্তু দিন তো একরকম থাকে না…
🌧️ অফিস আর সংসার
রিধির নতুন অফিসে চাপ বাড়ছে।
প্রেজেন্টেশন, ক্লায়েন্ট মিটিং, রাত অবধি কাজ—তারপর আবার বাড়িতে ফিরে রান্না, বাসন, সংসার।
একদিন রাতে, রিমি ক্লান্ত হয়ে বসে আছে সোফায়।
অর্ণব মোবাইলে স্ক্রল করছে।
— “আজকের প্রেজেন্টেশনটা খুব টাফ ছিল, বুঝলি?”
— “হুম…”
— “তুই শুনছিস?”
— “হ্যাঁ হ্যাঁ, বল না, আমি একটু ইনস্টাগ্রামে একটা মেম দেখছিলাম।”
— “তুই সবসময় এমন করিস! আমি কথা বলছি, তুই ফোন নিয়ে ব্যস্ত!”
— “আরে এখন আবার কী হলো?”
— “সবসময় আমি তোকে বুঝি, তুই কি একটুও আমাকে বুঝিস না?”
মাঝরাতে দু’জনেই চুপ করে থাকে।
অর্ণব নিজের ঘরে চলে যায়।
😔 নীরবতা
সকালে রিধি একা নাস্তা করে অফিস চলে যায়।
অর্ণব তার কাপ খালি রেখে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে।
ফোনে রিধির মেসেজ আসে—
“তোর সঙ্গে ঝগড়া করতে ভালো লাগে না। অফিসে যাচ্ছি। ভালো থাকিস।”
অর্ণব মেসেজ পড়ে, এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
🌤️ বোঝাপড়া
রাতে রিধি দরজা খুলে দেখে—ডাইনিং টেবিলে তার প্রিয় পাস্তা, লাল গোলাপ, আর এক টুকরো কাগজে লেখা—
“তুই ক্লান্ত হয়ে ফিরে এসে ঝগড়া পেতে চাস না।
আমি তোর পাশে থেকে ক্লান্তিটা ভাগ করে নিতে চাই।
আমি ভালো নেই তুই না হাসলে।
ফিরে আয়, আমি তোর অপেক্ষায় আছি।
– অর্ণব”
রিধির চোখ ভিজে যায়।
সে পিছন থেকে অর্ণবকে জড়িয়ে ধরে।
— “সরি রে… আমি খুব রাগ করে ফেলেছিলাম।”
— “তুই রাগ করবি না, আমি তাহলে বুঝব আমি ভুল করছি কীভাবে?”
— “তুই ছাড়া আমি কিছুই না।”
☕ এক কাপ চা, দুইটা মন
রাতে বারান্দায় বসে দুইজন এক কাপ চা ভাগ করে নেয়।
— “তোর মনে আছে, কলেজে আমরা একসাথে চা খেতে যেতাম?”
— “হ্যাঁ… ওই নীল রঙের কাপে, ওর নাম ছিল ‘প্রেমের চা’!”
— “তখন প্রেম ছিল গল্পের মতো, এখন প্রেমটা বাস্তবের মতো। কঠিন, তবুও গভীর।”
— “বাস্তব প্রেম মানেই তো রোজ ভালোবাসার নতুন পরীক্ষা।”
চুপচাপ সন্ধ্যার আলোয় দুজনেই বসে থাকে, পাশে তুপুর গাছটা যেন মাথা নেড়ে বলে—”তোমরা ঠিক পথেই হাঁটছো!”

