প্রেম তখন, প্রেম এখন পর্ব ১২: উত্তরাধিকার প্রেমের
🧒 অর্ণিমার কৈশোর
সময় গড়িয়েছে।
ছোট্ট অর্ণিমা এখন ক্লাস নাইনে পড়ে।
চোখে চশমা, হাতে মোবাইল, মনের গভীরে প্রথম প্রেমের স্পর্শ।
একদিন সন্ধ্যেবেলায় রিধি দেখে, অর্ণিমা ব্যাগ লুকোচ্ছে।
রিধি জিজ্ঞেস করে—
— “ব্যাগে কী লুকাচ্ছিস?”
অর্ণিমা লজ্জায় পড়ে। তারপর কাঁপা গলায় বলে—
— “একটা চিঠি… আমার বন্ধু ঋতব্রত লিখেছে…”
রিধি চুপ করে যায়।
এটাই তো জীবনের নিয়ম। একদিন সে যেমন প্রেমে পড়েছিল অর্ণবের, আজ তার মেয়েও সেই পথেই হাঁটছে।
🫂 মায়ের সঙ্গে মেয়ের বন্ধুত্ব
রাতে রিধি অর্ণিমাকে নিজের পাশে বসায়।
— “প্রেম মানে জানিস?”
— “মনে হয়… কাউকে খুব মিস করা?”
রিধি হেসে ফেলে।
— “না রে, প্রেম মানে— কাউকে এমনভাবে ভালবাসা, যাতে তার খুশি তোকে নিজের চেয়েও বড় মনে হয়।”
অর্ণিমা অবাক হয়ে বলে—
— “তাহলে তুমি বাবাকে এখনো প্রেম করো?”
— “আজও… প্রতিদিন, একটু একটু করে। যেমন ভোরে তার জন্য চা করি, আর রাতে তার পছন্দের সাবান এনে রাখি। ছোটখাটো জিনিসেই তো আসল প্রেম থাকে।”
📱 অর্ণিমার প্রথম মনভাঙা
একদিন স্কুল থেকে ফিরে অর্ণিমা কান্না করছে।
রিধি পাশে বসে।
— “কি হয়েছে?”
— “ঋতব্রত এখন অন্য একজনকে পছন্দ করে…”
রিধি মেয়ের মাথায় হাত রাখে।
— “মন ভাঙে, ঠিকই। কিন্তু মনটাই আবার সবচেয়ে শক্তিশালী। সময় নেবে, কিন্তু ঠিক ঠিক জোড়া লেগে যাবে।”
অর্ণিমা জিজ্ঞেস করে—
— “তোমারও কি কখনো মন ভেঙেছিল?”
— “অর্ণব একবার না বলে তিনদিন গিয়েছিল অফিস ট্যুরে… জানিস, কী কষ্ট পেয়েছিলাম! তবে ফিরে এসে যে চোখে তাকিয়েছিল, সব ভুলে গিয়েছিলাম।”
মেয়ের চোখে জল শুকিয়ে যায়, সে মাকে জড়িয়ে ধরে।
🌆 অর্ণব-রিধির সম্পর্কের নতুন ছায়া
অর্ণব এখন কর্মজীবনের শেষ ধাপে।
রিধি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
দিনগুলো পাল্টে গেছে, কিন্তু তাদের সম্পর্ক যেন আরও গাঢ়।
রাতে রিধি চুপচাপ বসে থাকে বারান্দায়।
অর্ণব পাশে এসে বসে।
— “কি ভাবছিস?”
— “ভাবছি… আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে যদি আমি না বলতাম ‘হ্যাঁ’, আমাদের অর্ণিমা থাকত না।”
— “তুই না বললে, আমার জীবনটাই থাকত না।”
রিধি মাথা রাখে অর্ণবের কাঁধে।
📚 অর্ণিমার চিঠি
অর্ণিমা একদিন কলেজে যাওয়ার আগে মা-বাবার ঘরে একটা খাম রেখে যায়।
✉️ চিঠির ভাষ্য:
_“মা-বাবা,
তোদের প্রেম দেখে আমি প্রেমে বিশ্বাস করতে শিখেছি।
ভালোবাসা যে চিৎকার নয়, তা তোদের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝেছি।
আমার ব্যথা থেকে শুরু করে হাসির গল্প, তোদের থেকেই শিখেছি—
একজনকে ভালোবাসা মানে তার পাশে থেকে বোঝা বইতে শেখা।
আমি জানি, আমার গল্প এখন শুরু হচ্ছে।
কিন্তু তোদের গল্পটা আমার ভিত গড়েছে।
আমি যেন একদিন তোদের মতো কাউকে এমনভাবে ভালোবাসতে পারি—
সেটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।
ভালোবাসি তোদের,
— অর্ণিমা”_
রিধি পড়ে কাঁদে, অর্ণব চুপচাপ কাঁধে হাত রাখে।
তারা বুঝে যায়—
ভালোবাসা শুধু দুজনের মাঝে না, ভালোবাসা উত্তরাধিকার হয়েও বেঁচে থাকে।
🎉 শেষ দৃশ্য: তিনটি ভালোবাসা
১. অর্ণব-রিধি—একটি পরিণত প্রেম, যেখানে মধুর অভ্যাসে রূপ নিয়েছে প্রেম।
২. অর্ণিমা—একটি নতুন গল্পের সূচনা, যেখানে বাবা-মায়ের শিক্ষা তার প্রেমের পথ দেখায়।
৩. পাঠক—আপনার চোখে এই প্রেমগাথা ছড়িয়ে পড়েছে, প্রতিটি অনুভব ছুঁয়ে গেছে হৃদয়ের তার।
🔖 [শেষ]
এই ছিল “প্রেম তখন, প্রেম এখন”-এর সমাপ্তি পর্ব। তবে প্রেমের তো কোনো শেষ নেই। আপনি চাইলে আমরা শুরু করতে পারি নতুন এক প্রেমের গল্প, নতুন চরিত্র, নতুন বাস্তবতা নিয়ে। আপনি কি চান নতুন ধারাবাহিক প্রেমকাহিনি শুরু হোক?
লিখে ফেলুন— “নতুন প্রেমগল্প শুরু হোক” ❤️
Follow our facebook page
Read More

