আমি সর্বদা তোমার প্রেমে পড়তে প্রস্তুত থাকি

আমি সর্বদা তোমার প্রেমে পড়তে প্রস্তুত থাকি

তোমার স্ট্রেইট করা চুলগুলো ফুলে ফেঁপে থাকলে সুন্দর দেখায়। কিন্তু আরও বেশি সুন্দর দেখায়, যখন তুমি ঘরে তেল চিটচিটে চুলগুলোকে টেনেটুনে মাথার পেছনে একটা সস্তা রাবারের ব্যান্ড দিয়ে আটকে রাখো। জানো, তোমার কপালটা তখন বড় দেখায়.! মুখে সদ্য জন্মানো ব্রণের সাথে একটা কালো টিপে আমি সর্বদা তোমার প্রেমে পড়তে প্রস্তুত থাকি। সকালের তোয়ালেতে ঝরে পড়া চুলগুলোর সাথে তোমার শরীরের গন্ধও জড়িয়ে থাকে।

কিন্তু, সেই গন্ধে আমি কখনো অবাক হইনা, বরং বার বার মোহিত হই। মাসের নির্দিষ্ট সময়ে যখন তোমার দুচোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। সেই দাগটার যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছি সবসময়। কিন্তু জানিনা, কতোটুকু পেরেছি। ছোটবেলায় পড়ে গিয়ে তোমার হাঁটুতে কেটে যাওয়ার দাগটা তোমার বাবা মায়ের পরে একমাত্র আমিই দেখেছি। তুমি সেই গল্পটা বেশ গুছিয়ে বলেছিলে।,

রাতে যখন ঘুমের ঘোরে অজান্তেই তোমার হাতটা আমার বুকে পড়ে, তখন কিন্তু আমার ভরসাটা আরো দৃঢ়তা পায়। রাতে টিভির ঘরে বসে তুমি পায়ের নখ থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ময়লা বের করো, আমার কিন্তু অসহ্য লাগে না। সেদিন সবজি কাটতে গিয়ে তোমার বুড়ো আঙুল একটু কেটে যাওয়াতে তুমি যেভাবে কেঁদেছিলে, মনে হয়েছিল পাঁচ বছরের কোন অবুঝ শিশু যেন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কান্না হয়তো আজ শেষই হবে না। ভাগ্যিস সেদিন অফিস বন্ধ ছিলো।

সারাদিনের কাজ শেষে তুমি যখন রাতে স্নান সেরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল গামছায় পেঁচাতে থাকো, তখন তোমার দিয়ে তাকিয়ে সাতবার মৃত্যুবরণ যায়। মাঝে মাঝে মনে হয়, কোন অনুষ্ঠানে যাবার সময় তোমার শাড়ির রঙ বাঁছাই আর কুঁচি ধরার জন্যেই হয়তো আমার পুনঃজন্মটা হয়েছে। আমার কোন ভুলে ঝাড়ি দেবার পর দেখি, তোমার নাকটা কেমন যেন রাগে-লজ্জায় লাল হয়ে যায়। ছুটির দিনে রান্না করার সময় তুমি যখন চামচে করে খাবারে লবণের পরিমাণ চাখতে দাও, তখন না মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। একবার আমার প্রচন্ড জ্বর হয়েছিল। থার্মোমিটারে একশো’র বেশি দেখাচ্ছে। সেদিন তোমাকে প্রচন্ড অস্থির হতে দেখেছি।

একদিন রাস্তায় একটা লোকের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয় আমার। তুমি সেদিন ওই লোকটাকে এমনভাবে ঝাড়ি দিয়েছিলে, বুঝেছিলাম আমি নই, বরং তুমিই আমাকে প্রটেক্ট করো। অনেকটা রণচণ্ডী রূপে। এতো সাহসী মেয়েটাকেও সেদিন ভীষণ রকমের ভীতু লেগেছিল, যেদিন তুমি ইনজেকশন দেখে আমার শার্ট খামচে ধরেছিলে। চোখ ফাঁকি দিয়ে আমার ওয়ালেট থেকে টাকা নিতে দেখেছি তোমাকে। বাসায় ফিরে শুনি, তুমি নাকি মায়ের জন্যে চশমার নতুন ফ্রেম কিনেছো।

তুমি যখন কলেজ পড়তে, তখন টাকা গুছিয়ে প্রতি বৈশাখে নতুন শাড়ি কিনতে দেখেছি তোমাকে। এখনও তুমি শাড়ি কেনার টাকাটা জমাও। অভ্যাসটা যায়নি। তবে এখন আর, বৈশাখের শাড়িটা নিজের জন্যে কেনা হয় না তোমার। তুমি ওই টাকায় পথশিশুদের কয়েকটা সস্তা নতুন জামা কিনে দাও। আগেরমতো আর নিজেকে নিজেকে নিয়ে ভাবো না। তাই না.? ব্যাস্ত কোন রাস্তা পার হবার সময় তুমি যখন আমার হাতটা ধরো, আমি শুধু তোমার দিকে তাকিয়েই রাস্তাটা পার হয়ে যাই। ডানে বামে তাকানোর কোন প্রয়োজনবোধ করি না। জানি হাতের শেষ অংশটা তুমিই ধরে আছো।

বিশ্বাস করো, আমি দেবী দেখিনি। কিন্তু তোমাকে দেখেছি। হয়তো ভালোবেসেছি ওই মানবরূপী কোন দেবিকে। কে যেন বলেছিল, মানুষকে দেবীর সাথে তুলনা করতে হয় না। আর ধূর, তার কথাকে সহস্রবার উপেক্ষা করেও তোমাকে ভালোবাসতে চাই। এমনকি সৃষ্টিকর্তার বিপরীতেও বলতে পারি, তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু, তোমাকে কখনো সামনাসামনি বলা হয়নি। হয়তো আশিতে পৌঁছাবার আগেই বলে দেবো “ভালোবাসি”।

Read More

আমি বিশ্বাস করি প্রবল ভাবে এখনো