গোপনে তোমারে সখা কতো ভালোবাসি, এই কথাটি তো কখনও মুখ ফুটে বলা হয় না। বলা যায় না, কারণ ভয় লাগে। যদি তুমি মুখ ঘুরিয়ে নাও? যদি তুমি বলো, “এসব কল্পনা, এসব কিছুই তো সত্যি নয়”? তাই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে, আমি এই ভালোবাসা লুকিয়ে রাখি। পাছে তুমি জেনে ফেলো আমার মনের কথা, পাছে আমার নিরবতা তোমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিদিন তোমায় দেখি, কখনো দূর থেকে, কখনো খুব কাছ থেকে—তবুও আমি অদৃশ্য। তুমি দেখো না আমায়। তুমি দেখো তোমার বন্ধুদের, সহপাঠীদের, কিংবা কেউ একজনকে যার চোখে তুমি ভালোবাসা খোঁজো। কিন্তু আমার চোখে তুমি দেখো না কিছুই—না প্রশ্ন, না আকুতি, না অপেক্ষা। আমি কেবল থাকি, চুপচাপ, ছায়ার মতো।
তোমার হাঁটাচলা, তোমার হাসি, তোমার চুলে বাতাসের ছোঁয়া—সবকিছুই আমার হৃদয়ে একেকটি সুর হয়ে বাজে। তুমি যেদিন ক্লান্ত হয়ে বসো, আমি দূর থেকে তোমার ক্লান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবি—”তোমার কপালের ঘামে যদি আমার হাতের ছোঁয়া লাগাতে পারতাম!” কিন্তু আমি তো কিছুই করতে পারি না। শুধু চেয়ে থাকি, আর মনে মনে বলি—“সখা, গোপনে তোমারে কত ভালোবাসি!”
তুমি যখন কারও সঙ্গে গল্প করো, আমি ঈর্ষায় জ্বলে উঠি না। বরং ভেতরে একটা হাহাকার জাগে—”এই আমি কেন পারছি না এমন করে তোমার সঙ্গে গল্প করতে? কেন পারছি না একটু সময় চেয়ে নিতে? একটা চা-খাওয়ার অজুহাতে তোমার পাশে বসতে?” আমি জানি, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই, অথবা আছে, কিন্তু সেগুলো বলার মতো সাহস আমার নেই।
রাতে ঘুমানোর আগে, চোখ বন্ধ করলে তোমার মুখটাই ভেসে ওঠে। দিনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো, তোমার হাসি, তোমার চোখের দৃষ্টি, তুমি কিছু বলার সময় ঠোঁটের নড়াচড়া—সবই মনে পড়ে যায়। যেন সেগুলোই আমার সিনেমা, আমার একমাত্র বিনোদন।
তোমার জন্য আমি কবিতা লিখি, যদিও তুমি জানো না সেই কবিতার পেছনের মানুষটা কে। আমি জানি, তোমার হয়তো এসব জানার ইচ্ছেও নেই। তুমি হয়তো কখনো ভাবো না, কেউ গোপনে তোমায় এমন করে ভালোবাসে।
তোমার জন্মদিনে আমি তোমার জন্য কিছু লেখি, হয়তো তোমার ফেসবুক পোস্টে একটা সাধারন শুভেচ্ছা দিই—যেমন সকলে দেয়। কিন্তু আমার মনের ভেতরে গোপন এক জন্মদিনের পার্টি চলে, যেখানে কেবল তুমিই আছো আর আমি, যেখানে আমি তোমার চোখে চোখ রাখি আর বলি—”শুভ জন্মদিন সখা, তোমার মুখের এই হাসিটা যেন কখনও না হারায়।”
তোমার সুখেই আমার সুখ, তোমার দুঃখে আমার বুক ফেটে যায়। অথচ তুমি কিছুই জানো না। তুমি ব্যস্ত তোমার জীবন নিয়ে—পড়াশোনা, কাজ, বন্ধুত্ব, প্রেম… হ্যাঁ, প্রেম! আমি জানি তুমি হয়তো কাউকে ভালোবাসো, অথবা কারো ভালোবাসা পাওয়ার অপেক্ষায় আছো। কিন্তু আমি তো ভালোবাসি তোমার অস্তিত্বটাকে, তোমার ব্যথা-বেদনা-আশা-আকাঙ্ক্ষাকে।
আমার এই ভালোবাসা একতরফা, কিন্তু তা কোনোভাবে কম নয়। বরং এই ভালোবাসায় কোনো দাবি নেই, প্রত্যাশা নেই, শুধু আছে নিঃস্বার্থ অনুভূতি। আমি চাই না তুমি আমার হয়ে যাও, আমি শুধু চাই তুমি ভালো থাকো, তুমি হাসো, তুমি স্বপ্ন দেখো, আর তুমি সেই মানুষটা খুঁজে পাও যে তোমায় যেমন তুমি, তেমন করে ভালোবাসবে।
তবুও… একটা ছোট্ট বাসনা রয়ে যায় মনকোণে—তুমি যদি একবার আমার দিকে তাকিয়ে বলো, “তুমি তো এতদিন ধরে ছিলে আমার পাশে, আমি বুঝতেই পারিনি!”
এই গোপন ভালোবাসা আমার কবিতা হয়ে গেছে, আমার প্রতিটা নিঃশ্বাসে তোমার নাম লুকানো থাকে। কখনো আমি মেঘের দিকে তাকিয়ে তোমার মুখ কল্পনা করি, কখনো রাত্রির নিঃস্তব্ধতায় তোমার নাম ধ্বনিত হয় আমার হৃদয়ের ভেতর।
তুমি জানো কি, আমি তোমার জন্য আকাশের তারা গুনেছি? প্রতিটা পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় তোমাকে কল্পনা করেছি। মনে হয়েছে তুমি যেন সেই আলো, যা আঁধারে পথ দেখায়, কিন্তু ধরা যায় না।
তুমি যদি জানতে, কতবার তোমার ফেসবুক প্রোফাইল খুলে দেখেছি, পুরনো ছবিগুলো ঘেঁটে তোমার শৈশবের হাসিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। তুমি যদি জানতে, তোমার প্রতিটা নতুন পোস্ট আমার জন্য যেন এক নতুন সকাল।
তুমি যদি জানতে, একবার দেখা হওয়ার পর কতোবার আমি সেই মুহূর্তটা রিকল করেছিলাম। কতবার তোমার কণ্ঠস্বরে নিজের নাম শুনতে চেয়েছি, অথচ সে সুযোগ কোনোদিন আসেনি।
সখা, এই ভালোবাসা হয়তো পৃথিবীর চোখে অদৃশ্য, কিন্তু আমার চোখে, এটাই তো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সত্য। হয়তো আমি কোনোদিন তোমার কাছে এই কথা বলবো না, হয়তো তুমি কোনোদিন জানতে পারবে না কে তোমায় এত নিঃশব্দে ভালোবেসেছে।
কিন্তু তাও বলি—
গোপনে তোমারে সখা কতো ভালোবাসি!
তোমার চোখের ভাষায় আমি কবিতা খুঁজি,
তোমার হাসিতে আমি জীবনের মানে খুঁজি,
তোমার চুপচাপ থাকা আমাকে চিনিয়ে দেয় ভালোবাসার প্রকৃত ব্যথা।
তুমি যদি কোনোদিন ক্লান্ত হও, মন খারাপ করো, মনে রেখো—এই পৃথিবীর কোনো এক কোণে, একজন মানুষ আছেই, যে তোমায় নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে।
এই ভালোবাসা কোনো নামে বাঁধা নয়, কোনো বন্ধনে বাঁধা নয়, কোনো চাহিদায় প্যাঁচানো নয়।
এই ভালোবাসা গোপন, গভীর, মেঘে ঢাকা চাঁদের মতো।
তুমি থাকো সুখে, আলোয়, আশায়।
আমি থাকবো ছায়ায়, নীরবে,
তবু চিরকাল বলে যাবো—
গোপনে তোমারে সখা কতো ভালোবাসি।
এই রচনাটি কবিতার ও গদ্যের সংমিশ্রণে রচিত হয়েছে, যেন আবেগের গভীরতা ও ব্যথা একসাথে প্রকাশ পায়। যদি আপনি চান, আমি এটি গান, নাটক বা চিঠির রূপেও রূপান্তর করতে পারি।
প্রকৃত হোমস্টে, আসান নগর, নদীয়া জেলা
পুগোপনে তোমারে সখা কতো ভালোবাসি

